Bhutan Tour


ট্রানজিট ভিসায় ভুটান ভ্রমণ.. ডিসেম্বর ২০১৯ আমরা ৭ জন বন্ধু ছিলাম..৫ জনের ই আগে ১ বার ট্যুরিস্ট ভিসায় ভারত ভ্রমণ করা ছিল.. সেই হিসাবে ভারতের ট্রানজিট ভিসা পেতে কোন সমস্যা হয়নি  । 


Bhuddha Point











সকল কাগজপত্র রেডি করে..এস আর ট্র‍্যাভেলস বাসে ঢাকা-বুড়িমারি-ঢাকার আসা যাওয়ার টিকেট এবং বুকিং.কম আ্যপের মাধ্যমে  ভুটানের হোটেল বুকিং কনফার্ম করে ভিসার জন্য আবেদন করি..যাত্রার আগের দিন ভিসা দেয়..তারপর আমরা প্যাকিং করে নির্দিষ্ট দিনে রওনা দেই  । সকল খরচের হিসাব পোস্টের শেষে দিব । ২৯ ডিসেম্বর রাতে আমরা ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে এস আর ট্র‍্যাভেলসে করে বুড়িমারির উদ্দেশ্যে  রওনা দেই, রাত ৯ টায় বাস ছাড়ে এবং সকাল ৬ টায় বুড়িমারি বর্ডার পৌছায় ।


এস আর ট্র‍্যাভেলসে যাত্রা পথে  । 




 সকাল ৯ টায় ইমেগ্রিশন অফিস খুললে  আমরা সকাল ১১ টার মধ্যে দুই দেশের ইমিগ্রেশন শেষ করি..তারপর টাকা এবং ডলারকে রুপি করে নিই ( অবশ্যই এখান থেকে টাকা রুপি করে নিবেন কেননা যাত্রাপথে এই সুযোগ আর পাবেন না)..ভুটানে ভারতীয় রুপি অনায়াসে চলে.. এরপর ভারতের চ্যাংরাবান্ধা বর্ডার থেকে জয়গাও বর্ডার পর্যন্ত একটা জিপ রিজার্ভ নেই  ।  জয়গাও ইমিগ্রেশনে পাসপোর্টে Exit সিল নিয়ে ওখানের পাশে বিসমিল্লাহ হোটেলে লাঞ্চ করি  । তারপর ভুটানে প্রবেশ করি ।  শুধুমাত্র একটা গেইটের ব্যবধান অসাধারণ সুন্দর গোছানো ভুটান সাইড, মনে হবে আপনি কোন স্বর্গে প্রবেশ করলেন, ভুটান সাইডের শহরটির নাম ফুন্টশলিং । ফুন্টশলিং এ একজন ড্রাইভারের সহায়তায় আমরা অন এরাইভাল ইমিগ্রেশন ফর্ম পূরণ করে ছবি তুলে ভুটানে এন্ট্রি করি  । মনে রাখবেন অবশ্যয় ছবি এবং হোটেল বুকিং এর কপি লাগবে ।  তারপর ঐ ড্রাইভারের গাড়িতে করে Thumpo শহরে যাই । Thumpo তে আমাদের ঠিক করা হোটেলে চেক ইন করি । 
ডিনার টা করে নিলাম ট্যুরমেট এর সাথে  । 



 হোটেল 89...তারপর ডিনার করে ঘুমিয়ে পরি..সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট করে গাড়ি ঠিক করি Thumpo শহর সাইটসিন করার জন্য... অপূর্ব সুন্দর Thumpo নগরী.. এখানে Bhuddha Point সবচেয়ে সুন্দর একটি দর্শনীয় স্থান, 


Bhuddha Point

Bhuddha Point 
Bhuddha Point


Bhuddha Point



রাজার বাড়ি, থিম্পুর লোকাল আরো বেশ কিছু স্পট.. একটা রাজধানী হিসেবে কোন হই হুল্লোর নেই..ঝামেলা নেই..খুব শান্ত, সাজানো আর অপূর্ব সুন্দর রাজধানী থিম্পু..ভুটানের রাস্তাগুলো অনেক বেশী সুন্দর..আমাদের এক মুহুর্তের জন্যও বোরিং লাগেনি... আমাদের ড্রাইভারকে পুনাখার পারমিশনের জন্য পাসপোর্ট -ভিসার কপি জমা দিই..পরের দিন সকাল ১০ টা বাজে ড্রাইভার পারমিশন নিয়ে রাখে এবং আমরা পুনাখার উদ্দেশ্যে রওনা দিই.. পথে বরফ বেষ্টিত দচুলা পাস দেখি..এখান থেকে হিমালয় স্পষ্ট দেখা যায়..এরপর পুনাখা সাস্পেনশন ব্রিজ, পুনাখা ডিজং, পুনাখা মনেস্ট্রি দেখি.. সেই রাস্তায় শুধু প্রতি পদে পদে সুন্দর মিশে আছে..রাস্তার চারপাশ বরফ দিয়ে ঢাকা..এসব প্লেস ঘুরে আবার থিম্পু ফিরে আসি সন্ধার দিকে..তারপর কিছুক্ষণ থিম্পু শপিং এরিয়া ঘুরে ডিনার করে হোটেলে চলে যায় । দুই রাত আমরা   থিম্পু থাকি । এর পর  দুই রাত আমরা পারো তে থাকি  । সকালে  ফুন্টশলিং এর উদ্দেশ্যে রওনা দিই.. পারো থেকে ফুন্টশলিং পৌছাতে প্রায় ৫ ঘন্টা সময় লাগে..ফুন্টশলিং পৌছে ভুটান থেকে পাসপোর্টে এক্সিট সিল নিয়ে ভারতের জয়গাও প্রবেশ করি এবং এরাইভাল সিল নিয়ে নিই..এরপর  জয়গাও থেকে শিলিগুড়ির জন্য রওনা দিই.. ভারত-বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন শেষ করে বাংলাদেশ প্রবেশ করি.. এরপর বিকাল ৬ টার এস আর ট্র‍্যাভেলস বাসে করে ঢাকার জন্য রওনা হয় ।  বিস্তারিত ভিডিও সহ দেখতে ভিজিট করতে পারেন  । https://www.youtube.com/watch?v=-R28kEANFq8&feature=share


Thumpo City



থিম্প থেকে পারো যাবার পথে পারো নদীর তীরে  । 







এভাবেই শেষ হয় এই অসাধারণ এডভেঞ্চার ভুটান ট্যুর...খরচের বিস্তারিত বিবরণ : ঢাকা-বুড়িমারি বাস ভাড়া ৬৫০/- টাকা..(নন এসি)..বর্ডার স্পিড মানি ২০০/- জনপ্রতি..চ্যাংড়াবান্ধা থেকে জয়গাও জিপ রিজার্ভ ২০০০/- রুপি..ফুন্টশলিং থেকে থিম্পু গাড়ি ভাড়া রিজার্ভ ৪০০০/- রুপি..থিম্পু হোটেল (২ রুম )  : ৬০০০ রুপি(২দিন) তারপরের দিন থেকে আমাদের সম্পূর্ণ  ট্যুরের জন্য ঠিক করা গাড়ির রিজার্ভ ভাড়া :১২০০০ রুপি....

পারো হোটেল ভাড়া ২ রুম ২ দিনের জন্য ৬০০০ রুপি..  আর আমরা প্রতিবেলা লাঞ্চ এবং ডিনারে গড়ে ৩০০/- রুপি করে খরচ করেছি প্রতিজনের জন্য..আর সকাল নাস্তায় জনপ্রতি গড়ে ৫০/- রুপি...আমাদের জনপ্রতি ৯৫৬০/- টাকা করে খরচ হয়েছে পুরা ট্যুরে..১০০ টাকায় ৮২.২০ রুপি রেট পেয়েছি আমরা...কিছু টিপস: ভুটানে খাবার অনেক দাম..খাবারের টেস্ট মোটামুটি খারাপ ই লাগবে বাংলাদেশিদের..কেননা বাংগালি খাবার পুরাই ভিন্ন..আর ভুটানিসরা খুবই ডিসিপ্লিন, শান্ত, বিশ্বাসী জাতি..তাই ওদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে..পাব্লিক প্লেসে ধুমপান করলে জরিমানা এবং জেল.. জেব্রা ক্রসিং ছাড়া রাস্তা পার হওয়া নিষেধ..রাত ৯ টার মধ্যে দোকান পাট সব বন্ধ হয়ে যায়..আমরা মাইনাস ৫/৬ তাপমাত্রা পর্যন্ত পেয়েছি.. বুঝতেই পারছেন মারাত্মক ঠান্ডা... অনেক গরম জামা কাপড় নিতে হবে..আর দিনের আলোতে ভ্রমণ করবেন এক শহর থেকে আরেক শহরে..তাহলে চারপাশের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারবেন.. আর নিঃসন্দেহে ঘুরতে পারবেন...কারণ ভুটান দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শান্তির দেশ হিসেবে পরিচিত... আর ভুটান এতই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দেশ যে আপনার বিবেকে বাধবে একটা ময়লা ফেলতে...তাই দয়া করে পরিবেশ নোংরা করবেন না..কারো সাথে খারাপ আচরণ করবেন না.. আর এমন পরিষ্কার দেশ দেখে এসে প্রতিজ্ঞা করবেন আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকেও পরিষ্কার রাখার.. দেশ বিদেশে ভদ্রতা বজায় রাখবো..শিক্ষিত আচরণ করবো..#happy_travelling 😊








Tour Start Date: 29 December- 2019
Return Date     :   04 January-2020
Hotel Name & Details:  Hotel  89 for 

Thumpo & Hotel Dragon for Paro
Address: Thumpo & Paro









No comments

Theme images by Blogger. Powered by Blogger.